উদীয়মান প্রযুক্তির জন্য বাংলাদেশ স্বতন্ত্র ডিজিটাল হাব

১৮ সেপ্টেম্বর, ২০২০ ১২:৪৩  
বিশ্ব ব্যাংকের সমীক্ষা অনুযায়ী বাংলাদেশ বর্তমানে বিশ্বের ৩৩ তম বৃহৎ অর্থনীতি, অন্যদিকে সেন্টার অফ ইকোনমিক্স অ্যান্ড বিজনেস রিসার্চ (সিইবিআর) এর ভাষ্য মতে, বাংলাদেশ ২০৩৩ সাল নাগাদ বিশ্বের ২৪ তম বৃহৎ অর্থনীতি-তে পরিণত হবে। এভারেস্ট গ্রুপের মতে বাংলাদেশ এখন বিশ্বের ৫ম বৃহৎ মোবাইল ফোন মার্কেট। এছাড়া এপেক এবং এইচএফএস রিসার্চ লিমিটেড বলেছে যে উদীয়মান প্রযুক্তির জন্য বাংলাদেশ স্বতন্ত্র ডিজিটাল হাব হিসাবে আত্মপ্রকাশ করেছে। দক্ষতা উন্নয়ন, স্টার্ট-আপ এবং বিনিয়োগের ক্ষেত্রে বাংলাদেশের অগ্রগতি নিয়ে আলোচনার লক্ষ্যে প্রথমবারের মতো অনুষ্ঠিত ‘বিয়নড-২০২০’ওয়েবিনারে এসব কথা বলেন বক্তারা। বাংলাদেশ হাই-টেক পার্ক কর্তৃপক্ষ-এর সহায়তায় দেশি-বিদেশি বিনিয়োগকারীদের হাই-টেক পার্কগুলোতে বিনিয়োগের উপযোগিতা জানান দিতে ওয়েবিনারটি আয়োজন করেছে ইন্সপায়রিং বাংলাদেশ। ১২টি প্যানেল আলোচনা নিয়ে সাজানো তিনদিনব্যাপী এই ওয়েবিনারের দ্বিতীয় দিন শুক্রবার ২০৩০ সালে বাংলাদেশের হাইটেক শিল্পের চ্যালেঞ্জ ও সম্ভবনা নিয়ে আলোচনা করেন আলোচকরা। এসময় আলোচক ছিলেন ভল্ট ইনভেস্টমেন্ট এলএলসির চেয়ারম্যান ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক সুলতান আলী রশীদ, ভাইব্রান্ট সফটওয়্যারের সিইও মোহাম্মাদ মারবিন, বাক্কো সাধারণ সম্পাদক তৌহিদ হোসেন, লাইট ক্যাসেল পার্টনার সিইও বিজন ইসলাম, ইউনিয়ন ব্যাংকের পরিচালক আশিক আহমেদ। বৃহস্পতিবার (১৭ অক্টোবর) ওয়েবিনারের উদ্বোধন করেন বাংলাদেশ হাই-টেক পার্ক কর্তৃপক্ষ-এর ব্যবস্থাপনা পরিচালক (সচিব) হোসনে আরা বেগম। ইমরান ফাহাদের সঞ্চালনায় উদ্বোধনী দিনে ওয়েবিনারে আলোচনা করেন সংযুক্ত আরব আমিরাত ভিত্তিক ভল্ট ইনভেস্টমেন্ট এর চেয়ারম্যান সুলতান লুতাহ, বেসিস এর সভাপতি আলমাস কবির, বাংলাদেশ হাই-টেক পার্ক কর্তৃপক্ষের পরিচালক (যুগ্মসচিব) এ এন এম সফিকুল ইসলাম প্রমুখ। প্রধান অতিথির বক্তব্যে বাংলাদেশ হাই-টেক পার্ক কর্তৃপক্ষের ব্যবস্থাপনা পরিচালক (সচিব) জনাব হোসনে আরা বেগম এনডিসি বলেন, দেশে এই মুহূর্তে ৫টি হাই-টেক পার্ক বিনিয়োগের জন্য প্রস্তুত। গাজীপুরের কালিয়াকৈরে ইতোমধ্যে বঙ্গবন্ধু হাই-টেক সিটিতে ৩৫৫ একর জমিতে বিভিন্ন কোম্পানি কাজ করছে। এখান থেকে উৎপাদিত পণ্য বিদেশে রপ্তানি হচ্ছে। দেশের বিভিন্ন পার্কগুলোতে বেসরকারি খাত থেকে প্রায় ৩২৭ কোটি টাকা বিনিয়োগ হয়েছে। এর বিপরীতে ২০১৬ সাল থেকেই হাই-টেক পার্ক থেকে আয় শুরু হয়েছে। ইতোমধ্যেই হাই-টেক পার্ক কর্তৃপক্ষ ৫০ কোটি টাকার বেশি আয় করেছে। পাশাপাশি ১৩ হাজার তরুণ-তরুণীর কর্মসংস্থান সৃষ্টি হয়েছে। ১১০টিরও বেশি স্টার্টআপ ও বড় কোম্পানি এখানে বিনিয়োগ করেছে। তিনি আরো বলেন, চট্টগ্রামে সফটওয়্যার টেকনোলজি পার্ক, শেখ হাসিনা ইন্সটিটিউট অব ফ্রন্টিয়ার টেকনোলজি এবং ১১টি জেলায় শেখ কামাল আইটি ইনকিউবেটর ও ট্রেনিং সেন্টার স্থাপনের কাজ প্রক্রিয়াধীন রয়েছে। ওয়েবিনারে আলোচকরা বলেন, বৈদেশিক বিনিয়োগের ক্ষেত্রে দক্ষিণ এশিয়ার মধ্যে ভারত এখনো এগিয়ে আছে, কিন্তু প্রণোদনা প্যাকেজ, মানবসম্পদ উন্নয়ন, সহায়ক অবকাঠামো, অনুকূল রফতানি শর্ত, নেতৃস্থানীয় ভোক্তা দেশগুলির সাথে কূটনীতিক সম্পর্ক ইত্যাদি সূচকে বাংলাদেশ ভারতসহ বিশ্বের মধ্যে নয়টি উদীয়মান গন্তব্যগুলোর চেয়ে এগিয়ে রয়েছে।